Alexa

দ্য ভিঞ্চি কোড | ড্যান ব্রাউন (৪র্থ পর্ব)

ভিনদেশি ধারাবাহিক ~ শিল্প-সাহিত্য | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম

দ্য ভিঞ্চি কোড | ড্যান ব্রাউন (৪র্থ পর্ব)

ডানিয়েল গেরহাড ব্রাউন (জন্ম ২২ জুন, ১৯৬৪) একজন আমেরিকান থ্রিলার ঔপন্যাসিক। এনজেলস অ্যান্ড ডিমনস (২০০০), দ্য ভিঞ্চি কোড (২০০৩), লস্ট সিম্বল (২০০৯), ইনফারনো (২০১৩) এবং অরিজিন (২০১৭) তার বিখ্যাত থ্রিলার উপন্যাস।

এসব উপন্যাসের নায়ক রবার্ট ল্যাংডন। ক্রিপ্টোগ্রাফি, গোপন চাবি, সিম্বল, কোড এবং কন্সপিরেসি থিওরির জ্ঞান কাজে লাগিয়ে, সব ধরনের গুপ্ত রহস্য ভেদ করে চব্বিশ ঘণ্টার মাঝে তাকে সমস্যার সমাধান করতে দেখা যায়। তার বইগুলো এযাবত ৫৬টি ভাষায় অনূদিত হয়েছে। এবং ২০১২ সাল পর্যন্ত মোট ২০০ মিলিয়নেরও বেশী কপি বিক্রি হয়েছে। এনজেলস অ্যান্ড ডিমনস, দ্য ভিঞ্চি কোড এবং ইনফারনো-এর কাহিনী অবলম্বনে তিনটি সফল চলচ্চিত্র নির্মিত হয়েছে।

ব্রাউনের এসব উপন্যাসে প্রধান চরিত্র, ল্যাংডন। পাশাপাশি এসবে মটিফ হিসেবে এমনভাবে ঐতিহাসিক বিষয়বস্তু এবং খ্রিস্টানত্ব অন্তর্ভূক্ত হতে দেখা যায়, যা বিতর্ক উসকে দেয়। তার থ্রিলার নোভেল দ্য ভিঞ্চি কোড এর শুরুতেই প্যারিস ল্যুভর মিউজিয়ামে এক লোমহর্ষক হত্যাকাণ্ড সংগঠিত হয়। এই খুনের সঙ্গে জড়িয়ে যায় প্রধান চরিত্র ‘সিম্বলজিস্ট’ প্রফেসর রবার্ট ল্যাংডনের নাম। রহস্য ভেদ করতে আরও এগিয়ে আসেন ক্রিপ্টোলজিস্ট সফি নাজে। ঘটনার অব্যবহত পরই এ দু’জন, তাদের প্রতীক ও ক্রিপ্টোগ্রফির জ্ঞান ব্যবহার করে, পরস্পরবিরোধী গুপ্তসংঘ প্রায়োরি অব সিয়ন ও অউপাস ডেই-এর অজানা সব লোমহর্ষক কর্মকাণ্ড আবিষ্কার করতে শুরু করেন। এক পর্যাযে তারা জানতে পারেন, সহচর মেরি মাগদালিনের গর্ভে যিশু খ্রিস্টের সন্তান জন্ম এবং তার বংশধরদের টিকে থাকার মতো বিতর্কিত বিষয় নিয়ে গোপন এই বিবাদের সূত্রপাত... 


দ্য ভিঞ্চি কোড

মূল: ড্যান ব্রাউন

ভাষান্তর: সোহরাব সুমন


অধ্যায় ৩

একটি অস্পষ্ট হিসহিস শব্দে জবাব আসে।

এজেন্ট ডিভাইসটি জায়গা মতো রেখে, এবার ল্যাংডনের দিতে তাকান। “মূল প্রবেশ পথে আপনি ক্যাপিতেনের দেখা পাবেন।”

ড্রাইভার প্লাজায় অটো ট্রাফিকের সব নিষেধ চিহ্ন অগ্রহ্য করে, ইঞ্জিনের গতি বাড়ান, এবং সিথোয়েনটি নিয়ে কাবের দিকে ছুটে যান। এবার দূরে উদ্ধতভাবে জেগে উঠা, ল্যুভরের মূল প্রবেশ পথটি দৃশ্যমান হয়, জায়গাটি সাতটি ত্রিকোণাকার পুল দিয়ে ঘেরা যেগুলোর ফোয়ারা থেকে আলোকিত জলধারা নির্গত হচ্ছে।

লা পিরহামিদে

প্যারিস ল্যুভর মিউজিয়ামের নতুন এই প্রবেশপথটি অনেকটা এর জাদুঘরের মতোই বিখ্যাত হয়ে উঠেছে। বিতর্কিত এই, নব্যআধুনিক কাচের পিরামিডের নকশাকার চীনে-জন্ম নেওয়া আমেরিকান স্থাপতি আই. এম. পেই আজও ঐতিহ্যবাদীদের ভীষণ অশ্রদ্ধার পাত্র যারা মনে করেন এটি রেনেসাঁ প্রাঙ্গণের মর্যাদা ধুলিসাৎ করেছে। গোথেকে জমাট হিম সঙ্গীতের স্থাপত্য হিসেবে বর্ণনা করা হয়ে থাকে এবং পেই-এর সমালোচকেরা একে একটি চকবোর্ডের ওপর কতগুলো তারকাটা বলে উল্লেখ করেন। প্রগতিশীল গুণগ্রাহীরা তবু, পুরাতন এবং নতুনের মাঝে প্রতীকী এক সেতুবন্ধ, পেই-এর এই একাত্তর-ফুট লম্বা স্বচ্ছ পিরামিডটিকে প্রাচীন নির্মাণ শৈলী ও আধুনিক পদ্ধতির চোখ ধাঁধানো এক ঐকতান হিসেবে স্বাগত জানিয়ে, ল্যুভরকে পরবর্তী সহস্রাব্দে প্রবেশে পথ দেখাতে সহায়তা করছে।

“আপনার কি আমাদের পিরামিড পছন্দ?” এজেন্ট জিজ্ঞেস করেন।

ল্যাংডন ভ্রু কুঁচকান। মনে হচ্ছে, ফরাসিরা, আমেরিকানদের প্রশ্নটি জিজ্ঞেস করতে ভালোবাসে। অবশ্যই, এটি ভাববার মতো একটি প্রশ্ন। পিরামিডটি পছন্দ করেন এ কথায় সায় দিলে আপনি রুচিহীন একজন আমেরিকানে পরিণত হবেন, এবং অপছন্দের কথা জানালে ফরাসিদের অপমান করা হবে।

“মিতেরা একজন সাহসী লোক,” মতানৈক্য এড়াতে, জবাবে ল্যাংডন বলেন। পিরামিডের কাজ সম্পন্ন করা বিগত এই ফরাসি প্রেসিডেন্ট এক ধরনের “ফারো কমপ্লেক্স”-এ ভুগেছেন বলে বলা হয়ে থাকে। প্যারিসকে মিশরীয় স্মৃতিস্তম্ভ, শিল্পকর্ম, আর হস্তশিল্পে ভরপুর করে তোলার ক্ষেত্রে তিনি এককভাবে দায়ী ছিলেন। মিশরীয় সংস্কৃতির প্রতি ফ্রাঁসোয়া মিতেরার এমনই সর্বগ্রাসী এক অনুরাগ ছিল যে ফরাসিরা আজও তাকে স্ফিংস নামে ডাকে।

“ক্যাপটেনের কী নাম?” কথা বলার বিষয় বদলাতে, ল্যাংডন জানতে চান। “বিজু ফ্যাশ”, পিরামিডের মূল প্রবেশ পথের সামনে এসে, ড্রাইভার বলে। “আমরা তাকে বলি- লে তুহু- ষাঁড়।

ল্যাংডন অবাক হয়ে তার দিকে তাকান, প্রতিটি ফরাসির একটি করে রহস্যময় জন্তুর উপনাম রয়েছে কী-না এই ভেবে অবাক হন।

“আপনি আপনার ক্যাপটেনকে ষাঁড় বললেন?”

 লোকটি তার ভ্রু কুঁচকান। “যতটা ভাবছেন আপনার ফরাসিজ্ঞান তারচেয়ে অনেক ভালো, মঁসিয়ে ল্যাংডন।”

আমার ফরাসিজ্ঞান জঘন্য হলেও, ল্যাংডন ভাবেন, জ্যোতিষ আইকোনোগ্রাফিতে আমি খুবই ভালো। তুহু সব সময়ই ষাঁড়- বৃষ। জ্যোতিষ বিশ্বজোড়া একই প্রতীকের।

ড্রাইভার গাড়ি থামায় এবং দু’টি পুলের মাঝ বরাবর পিরামিডের কোণার দিকে বড় একটা দরজা দেখায়। “ওদিকে প্রবেশ পথ। ভালো থাকবেন, মঁসিয়ে।”

“আপনি আসছেন না?”

“আমার ওপর আপনাকে এখানে নামিয়ে দেওয়ার নির্দেশ রয়েছে। আমাকে অন্য কাজে যেতে হবে।”

ল্যাংডন ফোঁস করে একটা দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে বেরিয়ে আসেন। এটা তোমার সার্কাস।

এজেন্ট ইঞ্জিনের গতি বাড়িয়ে চলে যায়।

ল্যাংডন একা দাঁড়িয়ে চলে যাওয়া গাড়ির আলো দেখতে দেখতে, ভাবে খুব সহজেই তিনি এই প্রাঙ্গণ থেকে বেরিয়ে, একটি ট্যাক্সি ধরে, ঘরে ফিরে গিয়ে বিছানায় শুয়ে পড়তে পারে। কিছু একটা তাকে বলে সম্ভবত এটি একটি বাজে চিন্তা।

ফোয়ারার ফিকে কুয়াশার দিকে এগিয়ে যাবার সময়, ল্যাংডনের এমন অস্বাভাবিক অনুভূতি হয় তিনি বুঝি অন্য এক জগতের কাল্পনিক কোনো প্রবেশদ্বার অতিক্রম করছেন। তার চারপাশে আবারও সন্ধ্যার সেই স্বাপ্নিক পরিবেশ ফিরে আসে। মাত্র বিশ মিনিট আগেও তিনি নিজের হোটেল কক্ষে ঘুমিয়ে ছিলেন। এখন তিনি স্ফিংস-এর পাশে স্বচ্ছ একটি পিরামিডের পাশে দাঁড়িয়ে, একজন পুলিশ অফিসারের জন্য অপেক্ষা করছেন যাকে তারা ষাঁড় বলে ডাকে।

আমি সালভাদর দালির কোনো পেইিন্টংসের মাঝে আটকা পড়েছি, সে ভাবে।

ল্যাংডন মূল প্রবেশ পথের দিকে হেঁটে যায়- প্রকাণ্ড এক রিভলভিং ডোর। প্রবেশপথের পেছনটুকু আবছা আলোকিত আর একেবারে জনমানবশূন্য।

আমি কি টোকা দেবো?

হারভার্ডের শ্রদ্ধেয় কোনো একজন ঈজিপ্টলজিস্ট কখনও কোনো পিরামিডের সদর দরজায় টোকা মেরে কোনো জবাবের আশা করেছেন কি-না কথাটা ভেবে ল্যাংডন খুব অবাক হন। তিনি কাচের ওপর আঘাত করবার জন্য হাত তোলেন, কিন্তু তার আগেই সর্পিল সিঁড়ি বেয়ে বড় বড় পদক্ষেপে অন্ধকার ভেদ করে আস্ত একটি মানব-মুর্তি এগিয়ে আসে। লোকটি গাট্টাগোট্টা আর কালো, অনেকটা নিয়ানডার্থালের মতো, চওড়া কাঁধ আবৃত করা কালো রঙের একটি ডাবল-ব্রেস্টেড স্যুট পড়া। দৃঢ় পায়ে, জড়সড়ের দিকে সুস্পষ্ট কর্তৃত্ব সহকারে এগিয়ে আসেন। সে তার সেল ফোনে কথা বলছিল তবে আসতে আসতেই কলটি শেষ করেন। ঢুকেই তিনি ল্যাংডনের দিকে ইশারা করেন। “আমি বিজু ফ্যাশ”, ল্যাংডন রিভোলবিং ডোরটি টানতেই তিনি জানান দেন। “সেন্ট্রাল ডিরেকটরেট জুডিশিয়াল পুলিশ-এর ক্যাপটেন।” তার গলার স্বর হুবহু- কণ্ঠের গম গম শব্দ... সমবেত কোনো ঝড়ের মতো।

ঝাঁকাবার জন্য ল্যাংডন তার হাত ধরেন। “রবার্ট ল্যাংডন।”

ফ্যাশের বিশাল তালু নিংড়ানো শক্তিতে ল্যাংডনের হাতটিকে জড়িয়ে ধরে।

“আমি ছবিটা দেখেছি,” ল্যাংডন বলেন। “আপনার এজেন্ট বলেছে কাজটা জ্যাক সোনিয়া নিজেই করেছেন”।

“মিস্টার ল্যাংডন,” ফ্যাশের আবলুশ রঙা চোখ দুটা বন্ধ হয়। “ওই ছবিতে আপনি যা দেখেছেন তা কেবল সোনিয়া যা করেছেন তার শুরু।”

চলবে…

সোহরাব সুমন সমকালীন একজন কবি। জন্ম বেড়ে ওঠা এবং পড়ালেখা ঢাকায়। তার মননশীলতা তার সৃষ্টিকর্মেই ভাস্বর। কবির নিরবচ্ছিন্ন সাহিত্য প্রচেষ্টা এবং সৃজনশীলতা তার আশপাশের পরিচিত বিশ্ব তার কাব্যিক রূপ-রস-গন্ধ সমেত পাঠকের চেতনায় জীবন্ত হয়ে উঠতে বাধ্য। একনিষ্ঠ এই কবি দীর্ঘদিন যাবৎ কবিতা, ছোটগল্প, সৃষ্টিশীল ফিচার লেখার পাশাপাশি অনুবাদ করে চলেছেন। ‘শুধু তুমি কবিতা’, ‘কবিতার বিস্বাদ প্রহর’ এবং ‘ভালোবাসি তোমার ছোঁয়া’ তার প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ, ‘আরববিশ্বের গল্প,’ ‘মিশরের শ্রেষ্ঠ গল্প,’ ‘ইরাকের শ্রেষ্ঠ গল্প,’ ‘ইতালির শ্রেষ্ঠ গল্প’ এবং ‘যুদ্ধের মেয়ে’ তার এযাবৎ প্রকাশিত অনুবাদ গল্পসংকলন। ‘স্পেনের শ্রেষ্ঠ গল্প’ তার সম্পাদিত গল্পসংঙ্কলন। ‘দ্য ট্রাভেলস অব মার্কো পলো’ তার অনূদিত অভিযাত্রিক ভ্রমণকাহিনী। বিখ্যাত মার্কিন লেখক এবং ইতিহাসবিদ হ্যরল্ড ল্যাম্ব রচিত সুলেমান দ্য মেগনেফিসেন্ট সুলতান অব দ্য ইস্ট তার অনূদিত ইতিহাস গ্রন্থ। এছাড়াও তালিকায় রয়েছে বিখ্যাত লেখক এনিড ব্লাইটন এর ‘শ্যাডো দ্য শিপ ডগ’। তাছাড়া তার অনূদিত একই লেখকের ‘রহস্য দ্বীপ’ কিশোর উপন্যাসটিসহ বিশ্বসাহিত্যের বেশকিছু বিখ্যাত বই প্রকাশের অপেক্ষায় রয়েছে। সঙ্গত কারণেই তার কবিতা, অন্যান্য লেখা এবং অনুবাদকর্ম পাঠকমহলে বহুল সমাদৃত।

বাংলাদেশ সময়: ১৬২৫ ঘণ্টা, এপ্রিল ১৭, ২০১৮
এসএনএস

গাজীপুরে মাঠ চষে বেড়াচ্ছে বিএনপির ৫৭ টিম
নারী কর্মীর সঙ্গে সম্পর্কে জড়ানোয় ইন্টেল সিইও অপসারণ
শিশুদের ওদের মতো করে আঁকতে ও শিখতে দিন
শেষ মুহূর্তে খেল দেখালেন কুতিনহো-নেইমার
‌‘বিজয় নিশান উড়িয়ে দাঁড়িয়ে আছে ইতিহাস’