Alexa

সামাজিক সুরক্ষায় ব্যাপ্তি ও বরাদ্দ বাড়ছে

স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম

বাজেট

ঢাকা: দারিদ্র্য ও অসমতা হ্রাসের ক্ষেত্রে নিয়মিত অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের বাইরে সামাজিক সুরক্ষা কার্যক্রমকে হাতিয়ার হিসেবে উল্লেখ করেছেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিত। এজন্য ২০১৮-১৯ সালের ঘোষিত বাজেটে সামাজিক সুরক্ষার ব্যাপ্তি ও বরাদ্দ বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছেন তিনি।
 
 

বৃহস্পতিবার (৭ জুন) দুপুরে জাতীয় সংসদে দেওয়া তার বাজেট বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রী বলেন, সপ্তম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনার আলোকে হতদরিদ্র/অতিদরিদ্র, প্রান্তিক জনগোষ্ঠী ও সমাজের সর্বাধিক ঝুঁকিগ্রস্ত অংশের দিকে লক্ষ্য রেখে প্রতিবছর মূল কর্মসূচিগুলোর আওতা ও পরিধি সম্প্রসারণ করা হচ্ছে। বরাদ্দ প্রদানের ক্ষেত্রে আমরা দুর্যোগপ্রবণ এলাকা, অতিদরিদ্র এলাকা এবং জনসংখ্যার অনুপাত বিবেচনা করছি।
 
তিনি বলেন, বয়স্ক ভাতাভোগীর সংখ্যা ৩৫ লাখ থেকে ৪০ লাখে বাড়ানো হবে। বিধবা ও স্বামী নিগৃহীতা নারী ভাতাভোগীর সংখ্যা ১২ লাখ ৬৫ হাজার থেকে ১৪ লাখে উন্নীত করা হবে। বীর মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য সম্মানী ভাতা ও উৎসব ভাতার পাশাপাশি বার্ষিক ২ হাজার টাকা হারে বাংলা নববর্ষ ভাতা চালু করা হবে। এছাড়া জীবিত মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য বিজয় দিবস উপলক্ষে জনপ্রতি ৫ হাজার টাকা করে বিশেষ সম্মানী ভাতা চালু করা হবে। অসচ্ছল প্রতিবন্ধী ভাতাভোগীর সংখ্যা ৮ লাখ ২৫ হাজার থেকে ১০ লাখ করা হবে। বুদ্ধি প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের উপবৃত্তির হার বাড়িয়ে প্রাথমিক স্তরে ৫০০ টাকার বদলে ৭০০ টাকা, মাধ্যমিক স্তরে ৬০০ টাকার বদলে ৭৫০ টাকায় এবং উচ্চ মাধ্যমিক স্তরে ৭০০ টাকার বদলে ৮৫০ টাকা করা হবে। ভাতাভোগীর সংখ্যা করা হবে ৮০ হাজার থেকে ৯০ হাজার জনে।
 
অর্থমন্ত্রী বলেন, হিজড়া, বেদে ও অনগ্রসর জনগোষ্ঠীর উপবৃত্তির হার প্রাথমিক স্তরে ৩০০ টাকার বদলে ৭০০ টাকায়, মাধ্যমিক স্তরে ৪৫০ টাকার বদলে ৮০০ টাকায়, উচ্চ মাধ্যমিক স্তরে ৬০০ টাকার বদলে ১ হাজার টাকা এবং উচ্চতর স্তরে ১ হাজার টাকার বদলে ১ হাজার ২০০ টাকা করা হবে। বেদে ও অনগ্রসর জনগোষ্ঠীর উপকারভোগীর সংখ্যা ৩৬ হাজার থেকে ৬৪ হাজারে উন্নীত, এদের মধ্যে বিশেষ ভাতাভোগীর সংখ্যা ২৩ হাজার থেকে ৪০ হাজারে এবং শিক্ষা উপবৃত্তির সংখ্যা ১১ হাজার থেকে ১৯ হাজারে উন্নীত করা হবে।
 
অর্থমন্ত্রী সংসদকে জানান, ক্যান্সার, কিডনি, লিভারসিরোসিস, স্ট্রোকে প্যারালাইজ্‌ড ও জন্মগত হৃদরোগীদের আর্থিক সহায়তা কর্মসূচির উপকারভোগীর সংখ্যা ১০ হাজার থেকে ১৫ হাজারে বৃদ্ধি, চা শ্রমিকদের জীবনমান উন্নয়ন কর্মসূচির উপকারভোগীর সংখ্যা ৩০ হাজার থেকে ৪০ হাজারে বৃদ্ধি, দরিদ্র মা’র জন্য মাতৃত্বকালীন ভাতা মাসিক ৫০০ টাকা থেকে ৮০০ টাকায় বৃদ্ধি এবং ভাতার মেয়াদ ২ বছরের বদলে ৩ বছর নির্ধারণ করা হবে। পাশাপাশি, ভাতাভোগীর সংখ্যা ৬ লাখ থেকে ৭ লাখে বৃদ্ধি, কর্মজীবী ল্যাকটেটিং মাদার সহায়তার আওতায় মাসিক ভাতা ৫০০ টাকা থেকে ৮০০ টাকা বৃদ্ধি এবং ভাতা প্রদানের মেয়াদ ২ বছরের বদলে ৩ বছর নির্ধারণ করা হবে। পাশাপাশি ভাতাভোগীর সংখ্যা ২ লাখ থেকে ২ লাখ ৫০ হাজারে বৃদ্ধি, কক্সবাজারের টেকনাফ ও উখিয়া উপজেলার প্রতিটিতে ২০ হাজার হিসেবে মোট ৪০ হাজার বৃদ্ধি করে ভিজিডি কার্যক্রমের উপকারভোগীর সংখ্যা ১০ লাখ ৪০ হাজারে বৃদ্ধি করা হবে।
 
তিনি বলেন, ভাতার হার ও ভাতাভোগীর সংখ্যা বাড়ানোর পাশাপাশি সামাজিক সুরক্ষা কার্যক্রমকে লক্ষ্যভিত্তিক, স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক করার জন্য আমরা তথ্যপ্রযুক্তিভিত্তিক সংস্কার কার্যক্রম তথা জি-টু-পি (Government to Person) পদ্ধতির প্রবর্তন করেছি। এর আওতায় প্রত্যেক উপকারভোগী সরকারি কোষাগার থেকে ইলেকট্রনিক ফান্ড ট্রান্সফারের মাধ্যমে নিজ নিজ পছন্দের ব্যাংক হিসাব বা মোবাইল হিসাবে মাসের নির্দিষ্ট তারিখে ভাতা পাবেন। পাশাপাশি, জাতীয় পরিচয়পত্রের সঙ্গে সংযোগ রেখে প্রত্যেক সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির জন্য ডিজিটাল তথ্য-ভাণ্ডার প্রস্তুত করা হচ্ছে, যা উপকারভোগী নির্বাচনে দ্বৈততা পরিহারে সহায়তা করবে। পাশাপাশি, নতুন ভাতার আবেদন, অভিযোগ ব্যবস্থাপনা, অর্থবরাদ্দ, অর্থছাড় ইত্যাদি বিষয়ও এর মধ্যে অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে। ফলে, সরকারি সম্পদ ও সেবায় সাধারণ জনগণের সহজ অভিগম্যতা ও অধিকার নিশ্চিত হবে। পাইলটভিত্তিতে মাতৃত্বকাল ভাতা কর্মসূচির সাতটি উপজেলায় জি-টু-পি’র মাধ্যমে ভাতা বিতরণ পদ্ধতির সূচনা করা হয়েছে। বয়স্কভাতা, বিধবা ও স্বামী নিগৃহীতা ভাতা এবং প্রতিবন্ধী ভাতা ১১টি জেলায় জি-টু-পি পদ্ধতিতে বিতরণের প্রস্তুতি চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। আশা করছি, আগামী অর্থবছরে সারাদেশে এটি সম্প্রসারণ করতে পারবো। এক্ষেত্রে নিরাপত্তা ঝুঁকি এড়াতে আমরা যথাযথ পদ্ধতি অনুসরণ করবো।
 
মুহিত উল্লেখ করেন, দারিদ্র্য বিমোচনের লক্ষ্যে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৭৪ সালে সর্বপ্রথম পল্লী সমাজসেবা কার্যক্রম শুরু করেন। বর্তমানে পল্লী সমাজসেবা কার্যক্রম, পল্লী মাতৃকেন্দ্র কার্যক্রম, দগ্ধ ও প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের পুনর্বাসন কার্যক্রম ও শহর সমাজ উন্নয়ন কার্যক্রম এর আওতায় পরিবার প্রতি ৫ হাজার থেকে ৩০ হাজার টাকা হারে গ্রামের অতি-দরিদ্র জনসাধারণের মধ্যে সুদমুক্ত ক্ষুদ্রঋণ বিতরণ করা হচ্ছে। এছাড়া বিভিন্ন মন্ত্রণালয়/বিভাগ/প্রতিষ্ঠান বিভিন্নমুখী ক্ষুদ্রঋণ কার্যক্রম পরিচালনা করার ফলে আত্ম-কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হচ্ছে।
 
প্রতিবন্ধী জনগোষ্ঠীর উন্নয়নে কার্যক্রমের বিষয়ে মুহিত বলেন, দেশব্যাপী প্রতিবন্ধিতা জরিপ শেষে শনাক্তকৃত সব প্রতিবন্ধী ব্যক্তির তথ্য Disability Information System (DIS) নামক তথ্য-ভাণ্ডারে অর্ন্তভুক্ত করা হয়েছে। আমাদের ধারণা মতে, যত প্রতিবন্ধী দেশে আছে, জরিপে সে সংখ্যা অনেক কমেছে বলে আমরা আনন্দিত। কিন্তু এতে আমাদের দায়িত্বও বেড়েছে। তাদের জীবনকে সহনীয় করে তোলার দায় আমাদের। এ তথ্য-ভাণ্ডার ব্যবহার করে পর্যায়ক্রমে সকল প্রতিবন্ধী ব্যক্তিকে পরিচয়পত্র প্রদান করা হবে। প্রতিবন্ধিতার মাত্রা ও ধরন অনুযায়ী চিকিৎসা, শিক্ষা ও প্রশিক্ষণসহ অন্যান্য সেবা প্রদানের লক্ষ্যে উন্নয়ন কার্যক্রমের পুনর্বিন্যাস এবং নতুন উন্নয়ন পরিকল্পনা গ্রহণ করা হচ্ছে।
 
মন্ত্রী বলেন, আমাদের প্রচেষ্টায় বিগত এক দশকে নারী শিক্ষার হার অনেক বেড়েছে। সে তুলনায় অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে নারীর অংশগ্রহণ এখনও যথেষ্ট নয়। প্রাপ্তবয়স্ক নারীদের মধ্যে স্বাক্ষরতার হার ২০০৯ সালে ছিল ৫৪.৩ শতাংশ, ২০১৬ সালে তা ৬৯.৫ শতাংশে উন্নীত হয়েছে। অন্যদিকে, অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে নারীর অংশগ্রহণ ২০১০ সালের পরে তেমন বাড়েনি; ২০১০ সালের ৩৬.০ শতাংশের তুলনায় সাত বছরে বেড়েছে নগণ্য ০.৩ শতাংশ; গ্রামাঞ্চলে অংশগ্রহণের হার বাড়লেও শহরাঞ্চলে অংশগ্রহণের হার কিছুটা কমেছে। যথোপযুক্ত প্রশিক্ষণ এবং আবাসন, সন্তানদের জন্য দিবাযত্ন কেন্দ্র, নারী-বান্ধব গণপরিবহন ইত্যাদি সুবিধা প্রদানের মাধ্যমে দেশের অর্ধেক জনগোষ্ঠীর উৎপাদন সম্ভাবনার পূর্ণ ব্যবহার করতে আমরা বদ্ধপরিকর। গণপরিবহনে নারীদের জন্য নির্দিষ্ট হারে আসন সংরক্ষণ ২০২০ সালে কার্যকর করার জন্য এবারে এক বছর সময় দেওয়া হচ্ছে।

বাংলাদেশ সময়: ১৭৫৮ ঘণ্টা, জুন ০৭, ২০১৮
আরএম/এইচএ/

বিশ্বকাপে ২৪ জুনের ম্যাচগুলো
মেসিডোনিয়ায় নাম পরিবর্তন চুক্তির প্রতিবাদে বিক্ষোভ 
রাজধানীতে অ‍াগ্নেয়াস্ত্রসহ ৫ ডাকাত আটক
ত্রিপুরায় বিজেপি কর্মীকে গুলি করে হত্যা
ড্রাইভিং সিটে সৌদি নারীরা