Alexa

এক দেশে রোজা শুরু করে অন্য দেশে তা পালনের বিধান কি?

ইসলাম ডেস্ক | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম

অপার মহিমার রমজান

অপার মহিমার মাস রমজান। আত্মশুদ্ধি-আত্মগঠনের এ মাসে মহান আল্লাহ তায়ালার সন্তোষ অর্জনের জন্য ইবাদত-বন্দেগিতে মশগুল থাকেন ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরা। রমজান মাসকে সঠিকভাবে পালনে করণীয় ও বর্জনীয়সহ নানা বিষয়ে জানার থাকে মুসল্লিদের। 

এজন্য মাহে রমজানে বাংলানিউজের বিশেষ আয়োজন ‘আপনার জিজ্ঞাসা’।এই আয়োজনের মাধ্যমে (bn24.islam@gmail.com ঠিকানায় ইমেইল করে) পাঠক তার রমজান বিষয়ক প্রশ্ন করে জেনে নিতে পারেন উত্তর। পবিত্র কোরআন ও হাদিস শরিফের আলোকে পাঠকের জিজ্ঞাসার উত্তর দেবেন বিশিষ্ট মুফাসসিরে কুরআন ও গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব মাওলানা সেলিম হোসাইন আজাদী।

অনিসুর রহমান, খুলনা।
প্রশ্ন: মুসাফিরের রোজা রাখার ব্যাপারে জানতে চাই?
উত্তর: ক. মুসাফিরের জন্য সফর অবস্থায় রোজা না রাখারও সুযোগ রয়েছে। তবে বেশি কষ্ট না হলে রোজা রাখাই উত্তম। আর অস্বাভাবিক কষ্ট হলে রোজা রাখা মাকরুহ। এ অবস্থায় রোজা না রেখে পরে কাজা করে নেবে। (রদ্দুল মুহতার ২/৪২১; ফাতাওয়া তাতারখানিয়া ৩/৪০৩)।
খ. সফর অবস্থায় নিয়ত করে রোজা রাখা শুরু করলে তা ভাঙা জায়েজ নয়। কেউ ভেঙে ফেললে গোনাহগার হবে। তবে কাফফারা দিতে হবে না। শুধু কাজা করবে। (রদ্দুল মুহতার ২/৪৩১)
গ. যে ব্যক্তি মুকিম অবস্থায় সেহরি খেয়ে সফর শুরু করেছে তার জন্য সফরের অজুহাতে রোজা ভাঙা জায়েজ নয়। ভাঙলে গোনাহগার হবে এবং শুধু কাজা ওয়াজিব হবে। (ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/২০৬)
ঘ. মুসাফির সফরের কারণে রোজা রাখেনি, কিন্তু দিন শেষ হওয়ার আগেই মুকিম হয়ে গেছে। সেদিনের অবশিষ্ট সময় রমজানের মর্যাদা রক্ষার্থে পানাহার থেকে বিরত থাকবে। আর পরে এ রোজার কাজা করে নেবে। (মুসান্নাফ ইবনে আবি শাইবা ৬/২২১, হাদিস: ৯৪৩৬-৯৪৩৮)

মো. এনামুল হক, ফেনী।
প্রশ্ন: এক দেশে রোজা শুরু করে অন্য দেশে যাওয়া ও রোজা পালন করার বিধান সম্পর্কে জানতে চাই?
উত্তর: একস্থানে রোজা শুরু করে অন্যস্থানে যাওয়ায় রোজা কম-বেশি হলে রোজা রাখার বিধান কি? ধরে নেওয়া যাক, কোনো ব্যক্তি জাপানে রোজা শুরু করলেন, সে দেশে চাঁদ দেখার ভিত্তিতে এবং ১৫ রমজান তিনি সৌদি গিয়ে দেখলেন ওই দিন ১৭/১৮ রমজান। লোকটি যেদিন সৌদিবাসীর সঙ্গে ঈদ করলেন তার আগের দিন পর্যন্ত রোজা হয়েছে ২৭ বা ২৮টি। এখন তার করণীয় কী?

আরও পড়ুন>>
** গর্ভবতী নারী রোজা ভাঙতে পারবে কি?

এমনিভাবে উদাহরণস্বরূপ, দক্ষিণ আফ্রিকায় রোজা শুরু করে কেউ ইন্দোনেশিয়া চলে গেলে তার রোজা ৩০টি পুরো হওয়ার পরও ইন্দোনেশিয়াবাসীর সে হয়তো আরো ২টি বা ১টি রোজা রাখতে দেখতে পারে। এক্ষেত্রে লোকটি কত দিন রোজা রাখবে? অর্থাৎ এক দেশে চাঁদ দেখার ভিত্তিতে রোজা শুরু করে অন্য দেশে গিয়ে তা সমাপ্ত করলে ওই দেশের চাঁদের হিসাবে রোজার সংখ্যা কমে বা বেড়ে গেলে তখন ওই রোজাদার ব্যক্তির করণীয় কী? 

এ প্রশ্নের জবাবের আগে একটি বিষয় জেনে রাখা দরকার যে, চান্দ্রমাসের সর্বনিম্ন ও সর্বোচ্চ সময়কাল হল যথাক্রমে ২৯ ও ৩০ দিন। একটি হাদিসে রাসুলে করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সুস্পষ্টভাবে এ ঘোষণা দিয়েছেন। এরই আলোকে সমস্যাটির সমাধান হল, যে ব্যক্তি ২৭ বা ২৮ রোজা পূর্ণ করার পরই তার (সফর করে আসা) দেশে ঈদের চাঁদ ওঠে যায় সে ওই দেশবাসীর সঙ্গে ঈদ করবে এবং পরবর্তী সময়ে একটি বা দুটি রোজা রেখে ৩০টি পূর্ণ করবে। তবে ওই জায়গায় যদি ২৯ রোজার পরই ঈদের চাঁদ দেখা গিয়ে থাকে তাহলে ২৯টি পুরো করলেই চলবে। আর যে ব্যক্তির রোজা ৩০টি পুরো হয়ে যাওয়ার পরও ওই দেশের মুসলমানদের রমজান মাস পূর্ণ হয় না সে ওই দেশের লোকজনের সঙ্গে রমজান শেষ হওয়া পর্যন্ত রোজা রেখে যাবে। যাতে রমজানের পবিত্রতা ক্ষুণ্ন না হয়। অতঃপর সবার সঙ্গে একত্রে ঈদ করবে।

জবাব প্রদানে: মাওলানা সেলিম হোসাইন আজাদী
লেখক: বিশিষ্ট মুফাসসিরে কুরআন ও গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব; চেয়ারম্যান: বাংলাদেশ মুফাসসির সোসাইটি।

বাংলাদেশ সময়: ১৪২৫ ঘণ্টা, মে ৩১, ২০১৮
এমএ/

নিয়ামতপুরে বাসের ধাক্কায় পথচারীর মৃত্যু 
যাত্রীর অভাবে চলতি বছর ২০ হজ ফ্লাইট বাতিল
১৮ আগস্ট ব্যাংক খোলা থাকবে যেসব এলাকায় 
‘জীবনে একবারও সিগারেট আর পান খাইনি’
‘জাতির জনককে অস্বীকারকারীদের সঙ্গে আলোচনা নয়’