Alexa

ভারী বর্ষণে নাজেহাল সাড়ে ২১ হাজার রোহিঙ্গা 

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম

ক্ষতিগ্রস্ত রোহিঙ্গা ক্যাম্প। ছবি: বাংলানিউজ

কক্সবাজার: চারদিনের ভারী বর্ষণে কক্সবাজারের উখিয়া ও টেকনাফের বিভিন্ন শিবিরে আশ্রয় নেওয়া সাড়ে ২১ হাজার রোহিঙ্গা ক্ষতিগ্রস্তের শিকার হয়েছে। রোহিঙ্গা শিবিরে বাতাসে তাবু ভেঙে যাওয়ার পাশাপাশি অতি বৃষ্টিতে শিবির তলিয়ে গেছে। এতে নাজেহাল হয়ে পড়েছে সেখানে আশ্রয় নেওয়া হাজারো মানুষের অবস্থা।

শনিবার (৯ জুন) থেকে মঙ্গলবার (১২ জুন) পর্যন্ত বৃষ্টিতে এ ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে রোহিঙ্গারা। সংশ্লিষ্টরা বলেছেন, বৃষ্টি না কমলে ক্ষতিগ্রস্ত রোহিঙ্গার সংখ্যা আরও বাড়বে। 

স্থানীয় সূত্র জানায়, অতি বর্ষণ, পাহাড়ি ঢল ও ভূমি ধসে মঙ্গলবার ৯৯ জন রোহিঙ্গা আহত হয়েছেন। একই সময়ে ১৩০টি শেল্টার হোম ধ্বংস হয়ে গেছে। 

এ বিষয়ে কক্সবাজারে আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার (আইওএম) সাইট পরিচালনা প্রকৌশলী জাহাঙ্গীর আলম বাংলানিউজকে বলেন, তীব্র বাতাস ও অতি বর্ষণে ক্যাম্পের রাস্তাগুলো সংকীর্ণ হয়ে গেছে। ফরে সেখানে এখন চলাচল করাও ঝুঁকিপূর্ণ। বৃষ্টি না থামলে  ক্ষতির সুনির্দিষ্ট পরিমাণ নির্ধারণ করা সম্ভব নয়। 

আরও পড়ুন>>
** 
পাহাড় ধস আর বন্যার ঝুঁকিতে ৩১ হাজার রোহিঙ্গা

তিনি বলেন, মঙ্গলবার বর্ষণে উখিয়ার ছয়টি ক্যাম্পে বিভিন্ন শেল্টারে আশ্রয় নেওয়া ৯৯ জন রোহিঙ্গা নারী-পুরুষ ও শিশু আহত হয়েছেন। আঘাত তুলনামূলক কম হওয়ায় স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। 

টানা বৃষ্টিতে ক্ষতিগ্রস্ত রোহিঙ্গা ক্যাম্পের রাস্তাঘাটও। ছবি: বাংলানিউজ ‘শেল্টার হোম ভেঙে গেছে ১৩০ টি। শনিবার থেকে এ পর্যন্ত ২ হাজার ৩৫০টি আশ্রয়কেন্দ্র বসবাসের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে।’

শেল্টার হোম সংস্কারের কথা জানিয়ে আইএমও-এর এই কর্মকর্তা জানান, ক্ষতিগ্রস্ত পরিকাঠামো মেরামতের কাজ চলছে। এর মধ্যে ড্রেনেজ কালভার্ট মেরামত,  পজিশনিং স্যান্ডব্যাগে, অ্যাক্সেস সড়ক থেকে ভূমিধস অপসারণ করা, পয়ঃনিষ্কাশন ও পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা সচল এবং বৃষ্টির পানি বণ্টন উল্লেখযোগ্য।

এদিকে উখিয়া ও টেকনাফ উপজেলার ক্যাম্পগুলোতে গত দুইদিনে ঝড়ের কারণে ৮৫ টি টয়লেট ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। চারদিনে মোট ১৮৯ টি টয়লেট ও ১১ টি পানির পয়েন্ট ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার আবুল কালাম বাংলানিউজকে বলেন, ১২ লাখ রোহিঙ্গা কক্সবাজারে আশ্রয়ে আছে। তাদের জন্য ধ্বংস হয়ে গেছে সেখানকার সাত হাজার একরেরও বেশি পাহাড়। তবে যে হারে বর্ষণ হচ্ছে সেভাবে কিন্তু ক্ষতি হয়নি। 

পূর্ব প্রস্তুতি থাকায় রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর জানমালের নিরাপত্তা দেওয়া সম্ভব হয়েছে বলে জানান তিনি। 

বাংলাদেশ সময়: ২১০৭ ঘণ্টা, জুন ১২, ২০১৮
টিটি/এমএ 

ডিমলায় জামায়াতের শীর্ষ ৪ নেতা আটক
সাচ্ছন্দেই নৌপথে ঘরে ফিরছেন মানুষ
বাংলাদেশ-ইন্দোনেশিয়া সম্পর্ক ঐতিহাসিক ও বন্ধুত্বপূর্ণ
মন সুস্থ রাখে খেলাধুলা, বুদ্ধি বাড়ায় দাবা
লুটেরাদের কাউকে ছাড়া হবে না: ইমরান খান