Alexa

ক্যালেডোনিয়ান বন বাঁচাতে চলছে সমন্বিত কর্মযজ্ঞ

অফবিট ডেস্ক | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম

অবশিষ্ট গ্র্যানি পাইন ও বার্চ গাছ থেকে প্রাকৃতিক বীজ সংগ্রহের পর সেগুলো বপণের ফলে বনের পুনরুন্নতি বাড়ছে। ছবি: ইন্টারনেট থেকে সংগৃহীত

উজাড় হতে বসা স্কটল্যান্ডের ক্যালেডোনিয়ান বন বাঁচাতে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করে আসছে দেশটি। এবার ‘কেয়ারগোর্স কানেক্ট’ নামে নতুন প্রকল্প শুরু হয়েছে, যা প্রকৃতি সংরক্ষণে যুক্তরাজ্যের বৃহত্তম পরিকল্পনাগুলোর একটি। বনভূমিটির ৭০০ কিমি পাহাড়, বন ও নদীগুলোর একটি অঞ্চল পরিচালনাকারী এনজিও, বেসরকারি সংস্থা ও ব্যক্তিদের একত্রিত করে সম্মিলিত এ কর্মযজ্ঞ চলছে।

বনটির নামকরণ করেছেন প্লেনি এল্ডার, যিনি জানিয়েছিলেন যে, ব্রিটেনের রোমান আক্রমণের ৩০ বছর পরও বনটি ক্যালেডোনিয়া অঞ্চলের বাইরে প্রসারিত হয়নি। ক্যালেডোনিয়ান শব্দটির অর্থ ‘উচ্চতা বিশিষ্ট বৃক্ষ’।

হাজার হাজার বছর ধরে ক্যালেডোনিয়ান ছিল এক সময়কার শীতপ্রধান স্কটল্যান্ড তথা ইউরোপের বৃহত্তম জীববৈচিত্র্য সমৃদ্ধ ঘন ও ক্রান্তীয় ভারী বৃষ্টিপাতের বন। প্রাচীন পাইন ও দর্শনীয় পাহাড়ি দৃশ্যাবলী নিয়ে বনটি সে সময়কার স্কটিশ পার্বত্য অঞ্চলেরও একটি বড় অংশকে আচ্ছাদিত করে রেখেছিল।

অথচ এখন এর আকার অনেক কমে গেছে। বনটির ভূমি কমার দীর্ঘ ইতিহাসের সূচনা ঘটে নবোপলীয় যুগে।
 
বনটির স্কট পাইন গ্রীষ্মকালীন স্কটল্যান্ডে তৈরি শুরু হয় ৭০০০ খ্রিষ্টপূর্বাব্দে। সে সময় ৫০০০ বর্গকিলোমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত হয় বনটি, যার ফলে স্কটিশ জলবায়ু আর্দ্র বায়ুপূর্ণ হয়ে পড়ে।

ইউরোপের পশ্চিমাঞ্চলীয় পাদদেশটিতে তৈরি হয় বিশাল নেটিভ পাইনউড, স্কট পাইন, বার্চ, রোয়ান, এপ্পন, জাইনিপ এবং অন্য গাছগুলোর দেড় মিলিয়ন হেক্টর জমি আচ্ছাদিত বিশাল বনজ এলাকাও। পশ্চিম উপকূলে ওক ও বার্চ গাছ, ফার্নস, মোস ও লাইনেস সমৃদ্ধ একটি সুষম বৃষ্টিপাত বাস্তুতন্ত্রের মধ্যে প্রাধান্য পায়। বনভূমিতে উদ্ভূত হয় ইউরোপীয় বিবর (ভোঁদড়), বন্য শুয়োর, লিনক্স, মুর, বাদামি ভাল্লুক ও নেকড়েরা। পাশাপাশি কপারকালেই, ক্রিসাইট টাইট ও ডেমাইটিক স্কটিশ ক্রসবালসহ পাখির বিভিন্ন প্রজাতির বসবাস শুরু হয়, যা অন্য কোনো বনে দেখা যায়নি।

পাহাড়, বন ও নদীগুলোর সমন্বয়ে প্রাকৃতিক বনটির পুরো অংশের সৌন্দর্য ফিরিয়ে আনার কর্মযজ্ঞ চলছে। ছবি: ইন্টারনেট থেকে সংগৃহীতস্কটল্যান্ডের মানচিত্র পরীক্ষা করে দেখা যায় যে, ১৬০০ সাল থেকে ক্যালিডোনিয়নের বনের পরিমাণ একটু একটু করে কমেছে। আর ২০০০ সাল থেকে জলবায়ুর পরিবর্তন এবং ভেড়া ও হরিণ এর চারণভূমির প্রভাবসহ মানুষের কর্মে উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পাচ্ছে।

দীর্ঘদিন ধরে জ্বালানি কাঠের জন্য গাছগুলোকে কেটে কৃষি জমিতে রূপান্তর করা হয়েছে। শতাব্দী ধরে মানব জনসংখ্যার বাড়ার কারণে বনভূমি হ্রাস পেয়েছে এবং কিছু অংশ ইচ্ছাকৃতভাবে ‘জংলি’ নির্মূলের নামে নেকড়ে বাঘের মতো প্রাণীদের নির্বিচারে হত্যা করা হয়েছে।

শিল্পের চাহিদা পূরণে ও বিশেষত ইংল্যান্ডে কাঠ সরবরাহের ফলে সাম্প্রতিককালে বনের বৃহৎ এলাকাগুলো নিশ্চিহ্ন হচ্ছিল। ভেড়ার বিস্তৃত পালন ও লাল হরিণের সংখ্যা বাড়ায় একবার বনের কোনো অংশ হারিয়ে গেলে তা আর ফিরে আসেনি।

বাস্তুতন্ত্রের এই মানব সৃষ্ট ভারসাম্যহীনতায় ক্যালেডোনিয়ানের অবশিষ্টাংশ ‘জেরিয়াট্রিক’ বন হয়ে উঠেছে, পুরনো গাছগুলো নিশ্চিহ্ন হওয়ার পর নতুন কোনো জায়গায় জন্মায়নি। গাছ মারা যেতে যেতে বনটি সংকুচিত হয়ে গেছে। সেগুলোকে রক্ষা না করা হলে পরবর্তী কয়েক দশকে অধিকাংশ প্রজাতির গাছ অদৃশ্য হয়ে যাবে।

এখন বনটিতে মাত্র ৩৫টি প্রজাতির গাছের অবশিষ্টাংশ রয়েছে, যা মাত্র ১৮০ বর্গকিলোমিটার (৬৯ বর্গমাইল) বা ৪৪ হাজার একর (১৮ হাজার হেক্টর) আচ্ছাদিত করে আছে।

এ অবশিষ্টাংশগুলোর গ্র্যানি পাইন ও বার্চ গাছ বা স্কিনস্‌ পাইনগুলো সরাসরি হিমযুগের পর স্কটল্যান্ডে জন্মানো প্রাচীন পাইন থেকে উত্থিত। এর অবশিষ্টাংশগুলো জেনেটিক্যালি বিভিন্ন স্কটিশ পরিবেশে অভিযোজিত হয়েছে। এবং তাদের পরিবেশগত বৈশিষ্ট্য ও অবিচ্ছিন্ন গঠনের কারণে সেগুলো বিশ্বব্যাপী অনন্য।

বেশিরভাগ ক্ষেত্রে অবশিষ্টাংশগুলো যে ভূমিতে বেঁচেছিল, সেগুলো ছিল অত্যন্ত জোরালো, খুব পাথুরে অথবা খুব দূরবর্তী কৃষিভিত্তিক। সর্বাধিক অবশিষ্টাংশ স্ট্রাথসপি ও স্ট্রাথডি অঞ্চলে অত্যন্ত অদ্ভুত ও মুক্তভাবে নিঃশব্দে রয়ে গেছে, যা চাষাবাদ ও গার্হস্থ্য মজুদের ক্ষেত্রে খুব কম মূল্যের।

শেষ প্রজন্মের গ্রীষ্মমণ্ডলীয় এ রেনফরেস্টটিকে সংরক্ষণ ও ভবিষ্যতের জন্য পুনরুদ্ধারে নেওয়া নতুন প্রকল্পটি গ্র্যানি পাইন ও বার্চ গাছকে বিলুপ্তির হাত থেকে রক্ষায় সহায়তা করছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

 ‘ক্যালেডোনিয়ান বনটি স্কটল্যান্ডের সবচেয়ে বিস্ময়কর ও পৃথিবীর সবচেয়ে বড় বনভূমিগুলোর একটি। এটির পুনরুদ্ধারে প্রতিটি একক গাছ লাগানো হয়েছে’ বলে জানান প্রকল্পটির গাছ সংরক্ষণে সম্পৃক্ত গর্ডন বুকানন।

কেয়ারগানস্‌ ন্যাশনাল পার্ক কর্তৃপক্ষের ড. ডেভিড হেথার্টন বলেন, ‘মালিকানা ও ব্যবস্থাপনা পরিবর্তনে হরিণের সংখ্যা কিছুটা কমে গেছে, যা গাছের পুনর্জন্মের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। ফলে ১০০ বছরেরও বেশি সময়ের মধ্যে প্রথমবারের মতো এলাকাটি নতুন প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে এবং অনেক প্রাণী আরো সুস্থ হচ্ছে’।

৯০০০ বছরের পুরনো হিমবাহ যুগের রেশ বনের কিছু অঞ্চলজুড়ে এখনো রয়ে গেছে। ছবি: ইন্টারনেট থেকে সংগৃহীত ‘অবশিষ্ট গ্র্যানি পাইন ও বার্চ গাছ থেকে প্রাকৃতিক বীজ সংগ্রহের পর সেগুলো বপণের ফলে বনের পুনরুন্নতি বাড়ছে। প্রতি বছর শত শত মানুষও আমাদেরকে আগাছা প্রজাতিগুলোকে সরিয়ে এসব গাছ বপণ ও সংখ্যা বাড়াতে সহায়তা করছেন’।

তবে ৯০০০ বছরের প্রাকৃতিক বিবর্তনের শৃঙ্খলায় বেঁচে থাকা স্বতন্ত্র বিভিন্ন মৃত্তিকা, গাছপালা এবং প্রাণীকূলকে রক্ষার চ্যালেঞ্জ সফলতা পাবে বলেই মনে করছেন তারা।

বাংলাদেশ সময়: ১০৪৫ ঘণ্টা, ডিসেম্বর ২৪, ২০১৭
এএসআর

ব্যবসায়ী পরিচয়ে প্রতারণার অভিযোগে যুবক গ্রেফতার
কুড়িগ্রামে বঙ্গবন্ধুর শাহাদত বার্ষিকীর শোক র‌্যালি
কাবুলে আত্মঘাতী হামলায় নিহত বেড়ে ৪৮
নবীগঞ্জে বজ্রপাতে কৃষক নিহত
বঙ্গবন্ধুর হত্যায় আন্তর্জাতিক চক্রান্ত জড়িত ছিল