Alexa

ভুল না করলে আমরা শিখতে পারবো না

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম

জাতীয় উন্নয়ন ও তরুণদের গবেষণামূলক কাজের ইন্টার্নশিপ প্রোগ্রামের ওরিয়েন্টেশন ও সার্টিফিকেট প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ। ছবি: বাংলানিউজ

ঢাকা: তরুণদের উদ্দেশ্যে দিক-নির্দেশনামূলক বক্তব্য রেখে বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বলেছেন, আমাদের স্বাভাবিক জীবনে ২৫ থেকে ৩০ বয়সটা হচ্ছে ভুল করার। ৩০ থেকে ৪০ বছর বয়স কাজ শেখার। আর ৪০ থেকে ৫০ নিজেকে তৈরি করে ৫০ এর পর থেকে নিজের অভিজ্ঞতা ও দর্শনের আলোকে সবাইকে কিছু দেওয়া বা শেখানোর সময়। ব্যতিক্রম ছাড়া পৃথিবীর সব বিখ্যাত ব্যক্তিই মোটামুটি ৪৫ বছর বয়সের পরেই প্রতিষ্ঠিত হয়েছেন।

সোমবার (৯ এপ্রিল) বিদ্যুৎ ভবনে সেন্টার ফর রিসার্চ অ্যান্ড ইনফরমেশন (সিআরআই) এবং ইয়ং বাংলার যৌথ আয়োজনে জাতীয় উন্নয়ন ও তরুণদের গবেষণামূলক কাজের ইন্টার্নশিপ প্রোগ্রামের ওরিয়েন্টেশন ও সার্টিফিকেট প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। 

তিনি বলেন, ভুল না করলে আমরা কখনও শিখতে পারবো না। তাই শুরুর জীবনে ভুল করতে হবে। ভুল করা মানে হচ্ছে কাজ করা বা চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করা। কাজ না করলে কখনো ভুল হয় না। বাংলাদেশে ব্যাপক অগ্রগতির সঙ্গে এগিয়ে বিশ্বের কাতারে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে যাচ্ছে। এদেশে অনেক সম্ভাবনা তৈরি হচ্ছে, তার মানে হচ্ছে প্রতিযোগিতা ব্যাপকভাবে বাড়ছে। তাই আমাদের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করার জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে। 

‘আর জীবনের প্রত্যেকটি সময়কে সঠিকভাবে কাজে লাগাতে হবে। একজন শিক্ষার্থী প্রকৌশল বিষয়ে পাশ করলেও সে যে শুধু এ দিকে নজর দেবে তা নয়। তাকে ম‍্যানেজমেন্টও শিখতে হবে। বুয়েটসহ বিভিন্ন প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অনেক শিক্ষার্থী পাস করে দেশের বাইরে চলে যাচ্ছে। আমরা তাদের আটকাতে পারছি না। আমরা যে বাংলাদেশ তৈরি করছি, সে বাংলাদেশে ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে। তাই এসব শিক্ষার্থীদের আমি অনুরোধ করবো, আপনারা দেশে থাকেন, দেশেই আপনাদের জন্য উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ রয়েছে।’

ইন্টার্নশিপ প্রোগ্রামে অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীদের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় প্রস্তুত হওয়ার আহ্বান জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, যেহেতু আমরা দেশের বিভিন্ন স্থানে আমাদের এ ইন্টার্নশিপ পরিচালনা করছি, সেহেতু আমি পরিচালকদের উদ্দেশ্যে বলবো, মেয়েদের নিরাপত্তার বিষয়ে জোরদার লক্ষ্য রাখবেন। প্রতিমাসে তারা যা যা শিখলো তা নিয়ে একটা রিপোর্টিংয়ের ব্যবস্থা রাখবেন। একমাস এক প্রতিষ্ঠানে ট্রেনিং করার পরে পরের মাসে অন্য আরেক জায়গায় ট্রেনিংয়ের ব্যবস্থা রাখলে তারা সবদিক থেকে উন্নত হয়ে গড়ে উঠবে। 

নসরুল হামিদ বলেন, প্রধানমন্ত্রীর পুত্র সজীব ওয়াজেদ জয়ের নির্দেশনায় তরুণদের দেশের উন্নয়নের জন্য গড়ে তোলার লক্ষ্যেই এ আয়োজন বা ইন্টার্নশিপ প্রোগ্রাম শুরু হয়েছে। তাই তাদের সবদিক থেকে দক্ষ করে তোলাই আমাদের প্রধান দায়িত্ব। 

শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে নসরুল হামিদ বলেন, একজন শিক্ষক কখনোই চান না তার শিক্ষার্থী ঠিক তার মতোই হোক। তিনি সবসময় চান তাঁর শিষ্য তার চেয়ে অনেক বড় স্থানে পৌঁছাক। তেমনি একটি কোম্পানির প্রধান কখনো চান না, তার অন্তর্গত লোকজন তার চেয়ে কম জানুক। এই ইন্টার্নশিপ প্রোগ্রামে সব প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তারা এসব শিক্ষার্থীকে যথেষ্ট আগ্রহ ভরে শেখাচ্ছেন বলে আমি জানি। এছাড়া ব্যবস্থাপকরা সবসময় তার কর্মীদের হাসিখুশি দেখতে চান। তাই আমি শিক্ষার্থীদের অনুরোধ করবো আপনারা যথেষ্ট শিখে আসুন। আপনারা ব্যক্তিগতভাবে উন্নত হলে দেশও উন্নত হবে।

প্রতিমন্ত্রী বলেন,  আমাদের মন্ত্রণালয়ের ১০০ জনকে ট্রেনিং দেওয়া হয়েছে এবং আরও ১৬৫ জনকে ট্রেনিং দেওয়া হবে। আমরা ২০১৮ সালের মধ্যে সর্বমোট ৫০০ জনকে ট্রেনিং দেওয়ার টার্গেট রেখেছি। এই ৫০০ জনের মধ্যে ন্যূনতম ১০০ জনকে এ মন্ত্রণালয়ে নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য পাবো বলে আশা করছি।

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. আহমদ কায়কাউস, বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের মহাপরিচালক মোহাম্মদ হোসেইন, একই প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যান খালেদ মাহমুদ প্রমুখ। 

প্রকৌশল বিভাগের শিক্ষার্থীসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যান্য বিভাগের শিক্ষার্থীদের প্রতিমাসে ১৫ হাজার টাকা সম্মানী দেওয়ার মাধ্যমে ৬ মাস মেয়াদী এ ইন্টার্নশিপ প্রোগ্রাম ও সার্টিফিকেট কোর্স পরিচালনা করা হচ্ছে। যা সিআরআই ও ইয়ং বাংলার মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছে। সিআরআই মূলত মূলত সজীব ওয়াজেদ জয়ের নির্দেশনায় পরিচালিত একটি প্রকল্প। 

এ প্রকল্পের অধীনে এ পর্যন্ত ১০০ শিক্ষার্থীকে ট্রেনিং দেওয়া হয়েছে। এ বছর মোট ৫০০ জন শিক্ষার্থীকে ট্রেনিং দেওয়া হবে। ছয়টি মন্ত্রণালয় ও মাইক্রোসফটসহ চারটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে ইন্টার্নশিপ প্রোগ্রামটি চলমান রয়েছে। অনুষ্ঠান শেষে সদ্য প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত একজনের হাতে সার্টিফিকেট তুলে দেন বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী।

সার্টিফিকেটপ্রাপ্ত খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুয়েট) ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষার্থী রাকিবুল ইসলাম বলেন, আমি নরসিংদী পাওয়ার প্লান্টে ইন্টার্নশিপ করেছি। এরকম একটি প্রতিষ্ঠানে ইন্টার্ন করার সুযোগ হয়তো নিজের প্রচেষ্টায় পেতাম না। এজন্য সরকারকে ধন্যবাদ জানাই। আর এ ট্রেনিংয়ের মাধ্যমে আমি সর্বোচ্চ সফলতা দেখাতে পারবো বলে আশা করছি।

বাংলাদেশ সময়: ১৯২২ ঘণ্টা, এপ্রিল ০৯, ২০১৮
এমএএম/এইচএ/

কমলাপুরে রাজধানীমুখী মানুষের ভিড়
মুক্তাগাছায় মাইক্রোবাস-অটোরিকশা সংঘর্ষে নিহত ৩
সাভারে আ’লীগের দু’গ্রুপের সংঘর্ষ, আটক ৩
বরিশালে আ’লীগের মনোনয়ন চান ৮৬ কাউন্সিলর প্রার্থী
সিসিকে মেয়র পদে চারজনসহ ১৫৪ প্রার্থীর মনোনয়ন সংগ্রহ