Alexa

তোরা, তেলডালা থেকে মুজিব ক্যাম্প

ইকরাম-উদ দৌলা, সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম

ছবি: শাকিল আহমেদ, বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম

১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে ব্যাপক গেরিলাযুদ্ধ সংঘটিত হয় গারো পাহাড়ের পাদদেশসহ উত্তরাঞ্চলের বিস্তীর্ণ জনপদে। এক্ষেত্রে সাধারণ মানুষ ২৫ মার্চের পর থেকেই নেত্রকোণা, জামালপুর, কুড়িগ্রাম, লালমনির হাট, পঞ্চগড় ও দিনাজপুরের সীমান্তবর্তী এলাকাগুলোতে আশ্রয় নেন। পাকবাহিনী সীমান্তের দিকে অগ্রসর হলে তারা সীমান্ত পেরিয়ে ওপারে মেঘালয়, আসাম আর পশ্চিমবঙ্গের কুচবিহার, জলপাইগুড়ি, শিলিগুড়ি আর পশ্চিম দিনাজপুরে চলে যান।

উত্তরাঞ্চল: ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে ব্যাপক গেরিলাযুদ্ধ সংঘটিত হয় গারো পাহাড়ের পাদদেশসহ উত্তরাঞ্চলের বিস্তীর্ণ জনপদে। এক্ষেত্রে সাধারণ মানুষ ২৫ মার্চের পর থেকেই নেত্রকোণা, জামালপুর, কুড়িগ্রাম, লালমনির হাট, পঞ্চগড় ও দিনাজপুরের সীমান্তবর্তী এলাকাগুলোতে আশ্রয় নেন। পাকবাহিনী সীমান্তের দিকে অগ্রসর হলে তারা সীমান্ত পেরিয়ে ওপারে মেঘালয়, আসাম আর পশ্চিমবঙ্গের কুচবিহার, জলপাইগুড়ি, শিলিগুড়ি আর পশ্চিম দিনাজপুরে চলে যান। এসব এলাকাতেই গড়ে ওঠে মুক্তিযোদ্ধাদের ট্রেনিং ক্যাম্প ও শরণার্থী শিবির।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৭ মার্চের ভাষণের পর সময়ের সাথে সাথে বাড়তে থাকে অস্থিরতাও। পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী পূর্ববাংলায় বাড়াতে থাকে সৈন্য সমাহার। ক্যান্টনমেন্টগুলোতে সৃষ্ট অস্থিরতায় বাঙালি সেনারা দেশ যুদ্ধের দিকে যাচ্ছে এটা কিছুটা আঁচ করতে পারছিলেন। তাই তারাও যে যেভাবে পারেন পালিয়ে আসেন। কেউ কেউ নিজ এলাকায় চলে যান। অনেকেই আবার আশেপাশেই সীমান্তবর্তী এলাকাগুলোতে স্থানীয় নেতাদের সঙ্গে যুদ্ধের প্রস্তুতিমূলক কাজ শুরু করেন। তাদের সঙ্গে যোগ দেন বিওপিগুলোর(বর্ডার অবজারভেশন পোস্ট)ইস্ট পাকিস্তান রাইফেলস-এর (ইপিআর) বাঙালি জওয়ানরা।

২৫ মার্চ ঢাকায় হত্যাযজ্ঞ শুরু হলে ২৬ মার্চের মধ্যেই দেশের সীমান্তবর্তী অনেক বিওপিতে কর্মরত ইপিআরের পাকিস্তানি সদস্যদের ওপর হামলা চালায় বাঙালি ছাত্র-জনতা-ও ইপিআর-সেনারা। এসময় অনেক পাকিস্তানি ইপিআর সদস্য মারা যায়। কোথাও কোথাও বাঙালিদের অস্ত্র দিয়ে সহযোগিতা করেন ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীও। এতে পাকিস্তানিরা সহজেই বুঝতে পারে আগে সীমান্ত এলাকা দখলে রাখতে হবে। এজন্য পাকবাহিনী তড়িৎ গতিতে সীমান্তের দিকে অগ্রসর হতে থাকে।
সীমান্তের ওপারেই ছিল শরণার্থী শিবির।

পাকিবাহিনী সীমান্তের দিকে আসতে শুরু করলে ভীত-সন্ত্রস্ত সাধারণ মানুষ ছুটতে থাকেন ভারত অভিমুখে। সীমান্তের ওপারেই গড়ে ওঠে বহু শরণার্থী শিবির। যেখানে আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগের নেতারা গড়ে তোলেন ইয়ুথ ক্যাম্প ও রিক্রুটিং ক্যাম্প। প্রতিদিন সেখানে নেতারা এসে যুদ্ধে যাওয়ার আহ্বান জানাতেন। তরুণদের নাম লেখাতে বলতেন মুক্তিযো্দ্ধা হিসেবে। এতে রাজী হতেন বাঙালি কৃষক, রাখাল, মজুর, শ্রমিক, ছাত্র-শিক্ষকরা। তবে অনেকেই প্রথমে ইয়ুথ ক্যাম্পে যেতেন। পরে রিক্রুটিং ক্যাম্পে গিয়ে নাম লেখাতেন। কেউ কেউ আবার সরাসারি রিক্রুটিং ক্যাম্পে যেতেন। যুদ্ধের পুরো নয়মাস ধরেই এ অবস্থা চলতে থাকে।

ভারতের সেনাবাহিনী মুক্তিযোদ্ধাদের ১৪ থেকে ২৯ দিনের গেরিলা ট্রেনিং দিত। তবে এই অল্প দিনেও তারা পেতেন পেশাজীবী সামরিক সদস্যদের মতই প্রশিক্ষণ। পুরোদস্তুর যোদ্ধা হওয়ার জন্য তাদের অমানুষিক কষ্টও করতে হতো। ছিল কঠোর সামরিক নিয়ম-কানুন। বিশ্বাসঘাতকতা করলে বা বড় অনিয়ম করলে পেতে হতো কঠোর শাস্তি।

হঠাৎ করে কষ্টের জীবনে এসে পড়া মুক্তিযোদ্ধাদের প্রেরণা যোগাতে ভারতীয় সেনারা নানা কৌশলও করতেন। কখনো গানের ব্যবস্থা, কখনো মাছ ধরতে যাওয়া, কখনও বা গল্প শুনিয়ে তাদের অনুপ্রেরণা দিতেন।

ময়মনসিংহের হালুয়াঘাটের মুক্তিযোদ্ধা ভদ্র ম্রঙও এপ্রিলের শুরুতেই চলে যান সীমান্তের ওপারে ভারতের মেঘালয় রাজ্যের নেলওয়াগিরি গ্রামে। সেখানে তিনি লোকাল গারোদের কাছে আশ্রয় নেন। ১০-১৫দিন থাকার পর, বাগমারায় শরণার্থী শিবির হলে সেখানে বাবা-মা পরিবারকে রেখে রিক্রুটিং ক্যাম্প যান। যেখানে ছিলেন দুর্গাপুরের আওয়ামী লীগের নেতা রফিক উদ্দিন ফারাবী। তিনি রিক্রুটিং ক্যাম্পের চার্জে ছিলেন। ভদ্র ম্রঙরা একসঙ্গে ১২ জন রিক্রুটেড হন। এরপর ট্রাকে করে তাদের প্রায় ৫০ থেকে ৬০ জনের একটি দলকে নিয়ে যাওয়া হয় মেঘালয়ের তোরা জেলার রংনাবার্গের প্রশিক্ষণ ক্যাম্পে।

প্রশিক্ষণের দিনগুলোতে তাদের ভোর রাত ৪টায় প্রস্তুতি নিতে হতো। সকাল ৬টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত ট্রেনিং চলত। এরপর বিকাল ৩ টায় শুরু হয়ে রাত আটটায় শেষ হতো।এর মধ্যে মর্টার চালানো, এসএমজি, এলএমজি, রাইফেল, গ্রেনেড ছোড়া ইত্যাদি শেখানো হতো। তবে রোববার ছুটির দিন হওয়ায় কিছুটা বিশ্রামের ফুরসত মিলতো।

শারীরিক দিক দিয়ে গেরিলা ট্রেনিং খুব পরিশ্রমের কাজ। তবে খাবারের কোনো অভাব ছিল না। সপ্তাহের দুইদিন মাংস, সকালে পুরি-চা, দুপুরে ভাত-গোশত অথবা মাছ-ডাল আর রাতে দেওয়া হতো রুটি। এছাড়া ফলমূলও ছিল। তবে অনেক সময় এতো খাবার খাওয়ার সময়ও পেতেন না মুক্তিযোদ্ধারা।

ভারত সরকার সবার জন্যই লুঙ্গি, গেঞ্জি, প্যান্ট, শার্ট, আন্ডারওয়্যার আর গামছার ব্যবস্থাও করতো। তবে সমস্যা হতো বাথরুম করতে। মানুষ অনেক, কিন্তু ট্রেনিং শুরু হয় নির্দিষ্ট সময়েই। তাই অনেক সময় একই জায়গায় একসঙ্গে তিনজনকেও বসতে হতো কখনো কখনো। অবস্থা এমন তিনজন তিনদিক হয়ে একই জায়গায় মলত্যাগ করতেন।

ওপারেই ভারতের মেঘালয়। এ রাজ্যের সীমান্তবর্তী এলাকাগুলোতেই মুক্তিযুদ্ধের সময় আশ্রয় নিতেন বাঙ্গালীরা। সেখান থেকেই তোরা, তেলডালায় যেতেন গেরিলা যুদ্ধের ট্রেনিং নিতে।

২১ দিনের সাধারণ ট্রেনিং ও ৫ দিনের জঙ্গল ট্রেনিং শেষে ভদ্র ম্রঙদের যার বাড়ি যেদিকে, সেদিকেই পাঠানো হয়। ‘হিট অ্যান্ড রান’ হচ্ছে গেরিলা আক্রমণের মূল মন্ত্র। আর এজন্য দরকার পরিচিত পথ। এজন্য ট্রেনিং নেওয়ার পর গেরিলাদের যার যার এলাকাতেই পাঠানো হয়। ১১ নম্বর সেক্টরের বাগমারা সাবসেক্টরে ফজলু রহমান কোম্পানির হয়ে যুদ্ধ করেন ভদ্র ম্রঙ। জুনে সেক্টর গঠনের আগ পর্যন্ত ভারতীয় সেনারাই যুদ্ধের দিক নির্দেশনা দিতেন।

নিউ টেন এ পড়ার সময় মার্চের মাঝামাঝি  ঝগড়ার চরের ইউনুস হারুণকে একদিন তার বাবা কিছু কাগজ আনতে  ময়মনসিংহে পাঠান। ফেরার সময় জামালপুর রেলওয়ে স্টেশনে (তখন ছিল সিংহজানী রেলওয়ে স্টেশন) নামার পর তার টিকিট হারিয়ে যায়। গেটে বিহারি টিকিট চেকার টিকিট নাই দেখে এমন জোরে একটা চড় মারে, যা গালের থেকেও বড়। তার চোখে আঘাত লেগে ছানি পড়ার উপক্রম হয়।

সেই ক্ষোভ থেকে ইউনুস সিদ্ধান্ত নেন মুক্তিযুদ্ধে যাওয়ার। সে অনুযায়ী, এপ্রিলের শুরুতেই বাহাদুরাবাদের পূর্ব দিয়ে যাদুরচর হয়ে  ১০-১৫জন ছাত্রের সঙ্গে ভারতের মহেন্দ্রগঞ্জ যান তিনি। যাদের সবার বয়স ১৯ কিংবা ২০ বছর। পরের দিন যান ইয়ুথ ক্যাম্পে। সেখানে আওয়ামী লীগের নেতারা ছিলেন। ওখানে থেকে পরের দিন নিয়ে যাওয়া হয় রিক্রুটিং ক্যাম্পে। এর পরদিন সেখান থেকে ভারতীয় বাহিনী তাদের নিয়ে যায় মেঘালয়ের তোরায়। তেলডালা নামক স্থানে তাদের ট্রেনিং দেওয়া হয়। জঙ্গল কেটে ইউনুসরাই সেই ক্যাম্প তৈরি করেন।

‘খোল্‌না, জোরনা আউর ফায়ার দ্যানা---ইয়ে তিন চিজ শিখনা জরুর হ্যয়’-- প্রথম দিনেই প্রশিক্ষকরা একথা বলেন। ভারতীয় আর্মির যত্নের কারণে ১৪ দিনেই তারা সেটা শিখে নেন।

এরপর শুরু হয় জঙ্গল প্রশিক্ষণ। এটা ছিল বেশ মজার। এখানে গেরিলা প্রশিক্ষণ দেওয়া হতো। এতে অ্যামবুশ করা, গুলি না থাকলে বা থাকলেও গুলি না করেই শত্রু ঘায়েল করা, ক্রলিং করা, রেকি করা ইত্যাদি শেখানো হতো। দেওয়া হলো বিস্ফোরক ট্রেনিংও। প্রশিক্ষক ছিলেন ভারতীয় আর্মির মেজর অমর সিং।

মুক্তিযোদ্ধা শাহজাহান আলী এপ্রিলের মাঝামাঝি এ পথ ধরেই নাজিরহাট বর্ডার হয়ে প্রশিক্ষণ নিতে যান মুজিব ক্যাম্পে।

বিস্ফোরক প্রশিক্ষণে ব্রিজ ওড়ানো, রাস্তা ভেঙ্গে ফেলা, মাইন পেতে গাড়ি ওল্টানো, রাইফেল, স্টেন গান, এইচএমজি (হাই মেশিন গান), এসএমজি (শর্ট মেশিন গান), রকেট লঞ্চার, আরসিসি গান (বাংকার ওড়ানোর জন্য বাইনোকুলার লাগানো বিশেষ বন্দুক) ইত্যাদি চালানো শেখানো হতো।

একদিন ইউনুসরা ১১ জন লাইন ধরে হেঁটে যাচ্ছিলেন। হঠাৎ ভারতীয় আর্মির একজন মাঝখানে এসে দাঁড়ালেন। এরপর বললেন, ‘ধরে নাও ওরা পাঞ্জাবী, তোমরা মুক্তিবাহিনী।’
অন্য অংশ পাহাড়ের আড়াল হলে বললেন, ‘এই নাও তোমাদের রাইফেল, ওদের রেকি (গোপনে বা ছদ্মবেশে শত্রুর অবস্থান জেনে আসা) করে খুঁজে বের করে খতম করো।’

ইউনুসরা রেকি করে ওদের অ্যামবুশ (ফাঁদে ফেলা) করলেন। প্রথমে গুলি ছুড়লেন। তবে গুলি বের না হয়ে কেবল আগুনের ফুলকি বের হতে লাগল। ওগুলো আসলে প্রকৃত বুলেট ছিল না। এভাবে কিছুক্ষণ চলার পর সাজানো পাঞ্জাবীদের উপর ঝাঁপিয়ে পড়লেন তারা। মিছিমিছি পাঞ্জাবী-মুক্তিবাহিনী যুদ্ধে লিপ্ত হয়ে রাইফেলের ব্যারেল দিয়ে আঘাত করে নিজেরাই নিজেদের মাথা ফাটিয়ে দিলেন। এই দেখে প্রশিক্ষক বললেন, ‘সাব্বাস! আচ্ছা হোনা চাহিয়ে।’ পরে ওদের হাসপাতালে পাঠিয়ে চিকিৎসা করানো হলো।

ট্রেনিং শেষ হলে ইউনুসকে জামালপুরের বকশীগঞ্জ সীমান্তের ওপারে ভারতের মহেন্দ্রগঞ্জে ১১ নম্বর সেক্টরের হেডকোয়ার্টারে পাঠানো হয়।

জলপাইগুড়ি যাওয়ার পথে গণকবর।

ভারতের জলপাইগুড়ি জেলার পাশ দিয়েই বয়ে গেছে মুরতি নালা। এটা পার হলে ওপারেই দার্জিলিং। জলপাইগুড়ির মেটলি থানার অন্তর্গত মুরতি নালার এপারেই ভারতীয় সেনাবাহিনীর প্রশিক্ষণশিবির মুরতি ক্যাম্প। যেখানে দেওয়া হয় মুক্তিযোদ্ধাদের গেরিলা ট্রেনিং। আর এই ক্যাম্পেরই নামকরণ করা হয় ‘মুজিব ক্যাম্প’।

ভুরুঙ্গামারী মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক শাহজাহান আলী এপ্রিলের মাঝামাঝি নাজিরহাট বর্ডার হয়ে প্রশিক্ষণ নেন এই মুজিব ক্যাম্পে। যার কমান্ডিং অফিসার ছিলেন ভারতীর সেনাবাহিনীর কর্নেল দাশগুপ্ত। এখানে এক মাস প্রশিক্ষণের পর তিনি সিলেকশনের মাধ্যমে ক্যাম্পের ইনস্ট্রাক্টর হন। এজন্য তাকে নিতে হয় জিএল (জুনিয়র লিডার) ট্রেনিং। তার প্রশিক্ষক ছিলেন ভারতীয় আর্মির ক্যাপ্টেন মুখার্জী, ক্যাপ্টেন ব্রেভো ও একমাত্র বাঙালি হাবিলদার নিমাই চন্দ্র বাগ।

প্রবাসী সরকারের অধীনে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর কমিশন্ড কর্মকর্তা হিসেবে প্রথম ব্যাচের প্রশিক্ষণও হয় মুজিব ক্যাম্পে। যেখানে বঙ্গবন্ধুর বড় ছেলে শেখ কামাল প্রশিক্ষণ নিয়ে যুদ্ধের সমযই কমিশনিং লাভ করেন। প্রতিটি ব্যাচের গেরিলা ট্রেনিং শেষে শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে তিনি উপস্থিত থাকতেন।

ক্যাম্পে একটি ক্লাব ছিল। প্রশিক্ষণ কার্যক্রম না থাকলে সেখানে প্রতিদিন বিকাল ৫টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত সবাই যেতে পারতেন। শেখ কামাল এখানে মাঝেমাঝেই এসে প্রশিক্ষণার্থী গেরিলাদের সঙ্গে কথা বলতেন। এতে সবাই অনুপ্রেরণা পেতেন। মুক্তিযোদ্ধারা এটাও মনে করতেন, স্বয়ং বঙ্গবন্ধুর ছেলে এতো কষ্ট করে ট্রেনিং নিচ্ছেন!

ক্লাবে ঢোকার পথেই তৈরি করা হয়েছিল কিছু মূর্তি। যেগুলোতে দেখা যেত পাকিরা মা-বোনকে অত্যাচার করছে, বেয়নেট চার্জ করছে। এসব দেখিয়ে দেখিয়ে প্রশিক্ষকরা বলতেন, পাকিস্তানিরা এভাবেই তোমাদের দেশে অত্যাচার করছে। এই কথাটায় পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ব্যাপক ক্ষোভ ও ঘৃণার উদ্রেক হতো মুক্তিযোদ্ধাদের মনে। প্রতিশোধের নেশায় তখন হাত নিশপিশ করতো তাদের।

প্রশিক্ষণ চলাকালে খুব অবসাদের সৃষ্টি হলে তা দূর হতো রোববার। ওই দিন ভারতে সরকারি ছুটি থাকায় ক্লাবে সারাদিন গান, বাজনা, তাস খেলা ইত্যাদির ব্যবস্থা ছিল। এছাড়া অফিসাররা বলতেন, মাছ ধরে আনার জন্য। এজন্য পাশেই বয়ে যাওয়া জলঢাকা নদীতে গ্রেনেড বিস্ফোরণ ঘটানো হতো। এতে মাছ ভেসে উঠত। তখনই তা ধরা হতো।

মুক্তিযুদ্ধে সহযোগিতা শুধু ভারতীয় আর্মিই করেছে এমন নয়, সাধারণ নাগরিকরাও নানাভাবে সহযোগিতা করেছেন শরণার্থী হিসেবে আশ্রয় নেওয়া বিপন্ন বাংলাদেশিদের।  মুক্তিযুদ্ধের সময় যেসব এলাকায় শরণার্থী শিবির বেশি ছিল, সেগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিল ভারতের কুচবিহার ও মেঘালয়ের বিভিন্ন অঞ্চল। এসব এলাকায় কেউ শিবিরে, কেউ স্থানীয়দের বাড়িতে আশ্রয় পেয়েছেন। শুধু ভাত-কাপড় দিয়ে নয়, ব্যবসা-চাকরিতেও তারা সহায়তা করতেন। এমনকি চাষাবাদের জন্য জমিও ছেড়ে দিতেন অনেকে। অনেকে ধানের আবাদও করতে পেরেছেন।

যারা ঘটনার বর্ণনা দিয়েছেন:
ভুরুঙ্গামারী উপজেলার মুক্তিযোদ্ধা সংসদের ডেপুটি কমান্ডার মোহাম্মদ আলমগীর মণ্ডল, মুক্তিযোদ্ধা মো. মজিবর রহমান, হালুয়াঘাটের মুক্তিযোদ্ধা ভদ্র ম্রঙ, ঝিনাইগাতির ইউনুস হারুণ ও নরেন্দ্র মারাক।

সহযোগিতায়:

আরও পড়ুন:
** পাকবাহিনীর-ওপর-গারো-হাজংদের-প্রতিশোধের-আগুন

বাংলাদেশ সময়: ০০০১ ঘণ্টা, ডিসেম্বর ০৩,  ২০১৬
ইইউডি/জেএম

পাটুরিয়া ফেরিঘাটে যানবাহনের দীর্ঘলাইন
কারাগারে ঈদ উৎসবে মেতে থাকবে ১০ হাজার বন্দী
ঈদের ছুটিতে বেড়িয়ে আসুন করমজল
কনার ঈদ গানের ডানায়
পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া নৌ-রুটে লঞ্চ চলাচল শুরু